শিরোনাম:
ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫

Demo Newspaper
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৫
প্রথম পাতা » অর্থ--বাণিজ্য » বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নির্দেশিকা বাস্তবসম্মত নয়
প্রথম পাতা » অর্থ--বাণিজ্য » বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নির্দেশিকা বাস্তবসম্মত নয়
১ বার পঠিত
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নির্দেশিকা বাস্তবসম্মত নয়

মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করেছে, সেটির তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্যাংকার ও এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যে খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করেছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়।

যেসব প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তারা ৫-১০ বছর পর মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করেছে। যদি খসড়া নির্দেশিকা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ও কার্যকর হয়, তাহলে এই খাতের বিনিয়োগ হুমকিতে পড়বে।খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি খসড়ায় বলা হয়েছে, এ ধরনের সেবা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউই এককভাবে ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হতে পারবে না। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক যদি মোবাইল আর্থিক সেবার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান গঠন করে, তাহলে ওই ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানের ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, এ ধরনের বিধান অনৈতিক, অবৈধ ও আইনগতভাবে বিরোধপূর্ণ। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তারা এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ৫-১০ বছর পর মুনাফার আশায় তারা এ বিনিয়োগ করেছে। যদি খসড়া নির্দেশিকা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত এবং কার্যকর হয়, তাহলে এই খাতের বিনিয়োগ বড় ধরনের হুমকিতে পড়বে।
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবার নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়। রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার-এর নিজস্ব কার্যালয়ে গতকাল শনিবার সকালে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ব্যাংকারসহ এই খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এককভাবে একটি ব্যাংকের ৫১ শতাংশ শেয়ারের বিধান করতে হবে।
বেসরকারি মেঘনা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, এককভাবে কোনো ব্যাংকের যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারধারী হওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে এ ধরনের সেবার জন্য প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেবে কে?
বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন বলেন, চার বছর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিদ্যমান নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাতেই মোবাইল ব্যাংকিংকে প্রতিযোগিতামূলক করার যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। তা সত্ত্বেও হঠাৎ করে কেন আবার নতুন নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলো, সেটি বোধগম্য নয়।
আবুল কাশেম আরও বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা খাতে তাঁর ব্যাংক এরই মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন বিধান কার্যকর হলে তাঁর ব্যাংককে মালিকানার ৮৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে। এতে যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাই দায়ী থাকবে।
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবীর বলেন, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবাপ্রতিষ্ঠান গড়তে হলে কমপক্ষে সাতজন উদ্যোক্তার প্রয়োজন হবে; যেটি বাস্তবসম্মত নয়।
সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মঈনুল ইসলাম বলেন, নির্দেশিকাটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় জনগণের চাহিদা ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন করে থাকে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।
ডেইলি স্টার-এর অপ-এড অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সিইও নাজমুস সালেহীন, মাস্টারকার্ডের বাংলাদেশ-প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, বিকাশের সিইও কামাল কাদির প্রমুখ।



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)