শিরোনাম:
ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫

Demo Newspaper
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৫
প্রথম পাতা » অর্থ--বাণিজ্য » সোনার দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা!
প্রথম পাতা » অর্থ--বাণিজ্য » সোনার দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা!
১ বার পঠিত
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সোনার দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা!

---

আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা দর বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়াল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক বেশি দামেই দেশের ক্রেতারা সোনা কিনছেন। তাই দাম বাড়ানোটা প্রায় ‘অযৌক্তিক’ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জুয়েলার্স সমিতি গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনা-রুপার দাম বাড়ার বিষয়টি জানিয়েছে। নতুন দর আজ রোববার কার্যকর হবে। এখন প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনা ৪৩ হাজার ২৭৩, ২১ ক্যারেট ৪১ হাজার ১৭৩ এবং ১৮ ক্যারেটের দাম হচ্ছে ৩৪ হাজার ৫২৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনা ২৩ হাজার ৯৪ টাকা ভরি। ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম ভরি ৯৯১ টাকা।

গতকাল পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৪১ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩৯ হাজার ৬৫৭ এবং ১৮ ক্যারেট ৩৩ হাজার ৯ টাকায় বিক্রি হয়। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ছিল ২১ হাজার ৮৭০ টাকা। রুপার ভরি ছিল ৯৩৩ টাকা।

জানা যায়, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মার্কেটে গত শুক্রবার বিশুদ্ধ বা ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি আউন্সের (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সর্বশেষ দর ছিল ১ হাজার ১৫৯ মার্কিন ডলার। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে হয় এক ভরি। তার মানে, প্রতি ভরি ৪৩৪ ডলার ৬৩ সেন্ট। দেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৭৭০ টাকা (প্রতি ডলার = ৮০ টাকা ধরে)। ২৪ ক্যারেট সোনার বারে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা পাওয়া যায়। আর ২২ ক্যারেটের ক্ষেত্রে মেলে ৯১ দশমিক ৬০ শতাংশ। সেই হিসাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার দাম হবে ভরিপ্রতি ৩১ হাজার ৮৫২ টাকা। তবে দেশে এই সোনার দাম এখন ৪৩ হাজার ২৭৩ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে ১১ হাজার ৪২১ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাজুস তথ্য ও ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১১ সালের ২ মার্চ দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ৪৩ হাজার ৩৩১ টাকা নির্ধারণ করে জুয়েলার্স সমিতি। তার আগের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি আউন্সের দাম ছিল ১ হাজার ৪৩৭ মার্কিন ডলার। আর গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) ছিল ১ হাজার ১৫৯ মার্কিন ডলার। তার মানে, সাড়ে চার বছর পর আউন্সপ্রতি ২৭৮ ডলার (২২ হাজার ২৮০ টাকা) কম হওয়া সত্ত্বেও প্রায় একই দামে সোনা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বর্তমানের দরের চেয়ে না কমলে এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আরও ভরিতে দেড় হাজার টাকা বাড়াব।’ এমনিতেই তো দেশের বাজারে সোনার দাম বেশি। বাড়ানোর কী প্রয়োজন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এক ভরি অলংকার তৈরি করতে কারিগরকে দুই আনা সোনা দিতে হয়। তা ছাড়া করসহ ব্যবসার বিভিন্ন খরচ ও ৫-৬ শতাংশ মুনাফা হিসাব করে অলংকার তৈরির হিসাবে আমরা সোনার দর নির্ধারণ করি।’

অবশ্য সমিতির এই নেতার কথা ধরলেও সোনার দাম কম হওয়ার কথা। কারণ পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের পোদ্দার সমিতির নিয়ন্ত্রণাধীন বুলিয়ন মার্কেটে গতকাল পাকা সোনা (২৪ ক্যারেট) প্রতি ভরি সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তার মানে, ২২ ক্যারেটের দাম দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৮১১ টাকা। এখন অলংকার তৈরিতে কারিগরকে ২ আনা পাকা সোনা দিলেও দাম পড়ার কথা ৩৯ হাজার ৫৫৮ টাকা ভরি। তার মানে, আজ থেকে নতুন দর কার্যকর হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ভরিতে ৩ হাজার ৭১৫ টাকা মুনাফা করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমিতির এক নেতা বলেন, ‘বর্তমানে যে দর (৪১,৭৫৭ টাকা ভরি) ছিল, তার থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করলেই হতো। তবে সমিতির অধিকাংশ সদস্য দেড় হাজার টাকা বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন।’

এ বিষয়ে এনামুল হক খান বলেন, ‘দেশে বৈধভাবে সোনা কেনার ব্যবস্থা নেই। লাগেজ পার্টিই একমাত্র ভরসা। আর আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে তাঁরা সব সময়ই ভরিতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বেশি নেন। অন্যদিকে ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দিতে হয়। এই টাকা আবার ৭৫ শতাংশ ক্রেতাই দিতে চান না।’ তবে ব্যাগেজ রুলসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সোনা আনার ক্ষেত্রে শুল্ক কমালে ভরিতে তিন-চার হাজার টাকা কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)