ঢাকা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫
---
---
Demo Newspaper
প্রচ্ছদ » আয়োজন » নতুন জামায়, চাঁদের হাসি
রবিবার ● ২ আগস্ট ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this News Print Friendly Version

নতুন জামায়, চাঁদের হাসি

---রায়ের বাজারের মীম। বয়স কত হবে বড়জোর ১৩। ও যখন জামা নিতে আসলো তখন মধ্যদুপুর। শেষ রমজানের আকাশে তখন গনগনে রোদ। মীমের চোখে মুখে মেখে আছে ঘাম। ফর্সা মুখটায় যেন অবেলায় সন্ধ্যা নেমেছে। মীমের বাবা নেই। মা মানুষের বাসায় কাজ করে। ঈদে নতুন জামার কথা সে চিন্তা করতে পারে না। এই তো রমজানের কিছুদিন আগেই সে একটা জামা পেয়েছে। তার মা যে বাসায় কাজ করে সে বাসায় তার মতো একটি মেয়ে আছে। ওই মেয়ের জামাটিই সে মায়ের সাথে ওদের বাসায় গিয়ে পেয়েছে। হোক না সেটা সামান্য ছেঁড়া। মীম বাসায় এসে সেলাই করে নিয়েছে। এইতো দিব্যি এখন সেটা গায়ে দিয়ে আছে। ঈদে আবার নতুন জামা কিসের?

ধানমণ্ডি ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আমরা যখন ঈদে নতুন জামা প্রদানের তালিকা করছিলাম তখন যেন আমাদের কথা বিশ্বাসই করতে পারছিল না মীম। কেন না মায়ের বাইরে কেউ যে তাকে নতুন জামা উপহার দিতে পারে এ কথা সে বিশ্বাস করতে পারছিল না, এমনটাই জানান সামাজিক সংগঠন ‘বৃত্তের বাইরে’র অনিন্দ্য আকাশ।

মুন্নীদের বাড়ি ময়মনসিংহ। বাবা মারা যাওয়ার পরে গত বছর মায়ের সাথে ঢাকায় চলে আসে। থাকে রায়ের বাজারের বস্তিতে। সে এখানে এসে একটা সুবিধা বঞ্চিত স্কুলে ভর্তি হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে ধানমণ্ডি লেকে মাঝে মাঝে ফুলও বিক্রি করে। নতুন জামা পেয়ে কেমন লেগেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মুন্নীর চোখে জল এসেছিল। কেননা মুন্নী জানে না তার বাবা কোথায়। মা বলে ছোটবেলায় বাবা তাদের ছেড়ে কোথায় চলে গেছে। বাবা ফেরেনি। কখনই ফেরেনি। মা একটা রেস্টুরেন্টে থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করেন। এভাবেই তাদের দিন চলে যায়। কিন্তু সহজেই ঈদে নতুন পোশাকের সেইসব স্বপ্ন পূরণ হয় না। ভাইয়ারা এবার ঈদে নতুন জামা দেওয়ায় বেশ আনন্দিত মুন্নী।

শুধু মীম আর মুন্নী নয়। রমজান, আলিম, সজিব, সুমি সবার গল্পই প্রায়ই একই। শুধু তাদের মধ্যে পার্থক্য বয়সটার। এই যেমন সজিবের বয়স ১১ বছর কিন্তু আলিমের বয়স দুই বছর। আবার সুমির বয়স ৮ বছর। এদের মধ্যে কেউ স্কুলে যায় আবার কেউ যায় না। ঠিক এবার এ রকম ১২০ পথ শিশু ঈদ করল নতুন জামা পরে। এই উদ্যোগ ‘বৃত্তের বাইরে’র হলেও এদের পেছন থেকে সহযোগিতা করে গেছে ‘ইভেন্ট ৫২’ নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ও কালের কণ্ঠ শুভ সংঘ।

ইভেন্ট ৫২’র মোহাম্মদ আলী অনিক বলেন, আমরা যখন এসব সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিলাম তখন তাদের চোখে মুখে দেখেছি আনন্দ। যে আনন্দ আমাদের কাছে স্বর্গ সুখের মতো। অনিক জানান, সব ধরনের ভালো কাজের পেছনে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বৃত্তের বাইরের সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অনিন্দ্য আকাশ। তিনি বলেন, আমরা সব সময়ই ভালো কাজ করতে চাই, মানবতার জন্য কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, কোনো এক ঈদে খেয়াল করলাম বড়লোক এলাকা ধানমণ্ডির পাশেই রয়েছে দরিদ্রদের বসবাস। যখন ধনী মানুষরা ঈদে দামি পোশাক পরে নামাজে যায় তখন ঈদগাহে এইসব সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা ছেঁড়া ছিন্ন পোশাকে তাদের দিকে হাত পেতে থাকে। তখন মনে হলো সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কিছু করতে হবে। সেই পরিকল্পনা থেকে এবার ১২০ শিশুকে আমরা নতুন জামা দিতে পেরেছি। সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জন্য আরো বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়াও কালের কণ্ঠের শুভ সংঘ ও ইভেন্ট ৫২’র নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনিন্দ্য আকাশ। -


নারী পুলিশের প্রেমের ফাঁদে পড়ে গ্রেপ্তার ডাকাত

‘মাইক্রোসফট এজ’ ব্রাউজার হিসেবে ভালো হলেও আরো উন্নত করতে হবে


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
পরীক্ষামূলকভাবে সিম নিবন্ধন শুরু হয়েছে
এসডিজি অর্জনে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি
কোনালের ‘সুখ থামে না’
আব্বা মুক্ত থাকলে আমাদের ছিল ডাবল ঈদ
মেডিকেল ভর্তির ফল বাতিল চেয়ে করা রিট খারিজ
যে পোশাক অদৃশ্য করে দেবে
সবচেয়ে ধনী দেশ এখন কাতার
চাই জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন
ক্রোয়েশিয়ার দিকে ছুটছে অভিবাসন-প্রত্যাশীরা
লন্ডন পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া