শিরোনাম:
ঢাকা, মার্চ ২৬, ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

Demo Newspaper
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০১৫
প্রথম পাতা » আয়োজন | আর্ন্তজাতিক | বিজ্ঞাপন | বিশেষ বিভাগ » ৩৭ শতাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিক বেতন পাননি
প্রথম পাতা » আয়োজন | আর্ন্তজাতিক | বিজ্ঞাপন | বিশেষ বিভাগ » ৩৭ শতাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিক বেতন পাননি
৩ বার পঠিত
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

৩৭ শতাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিক বেতন পাননি

---
উত্তরার সোয়ান গার্মেন্টসের ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক তিন মাস ধরে বেতন পান না। অন্যদিকে টঙ্গীর কে এল ফ্যাশনের মালিক ১৫০ শ্রমিককে জুন মাসের বেতন-ভাতা না দিয়েই গত সপ্তাহে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। এই দুই কারখানার প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক ঈদের আগে পাওনা বুঝে পাবেন কিনা তা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।
সোয়ান গার্মেন্টস ও কে এল ফ্যাশনের মতো গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ৩৭ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ গত শনিবার পর্যন্ত শ্রমিকদের জুন মাসের বেতন বুঝিয়ে দেয়নি। এর মধ্যে ঠিকা কাজ করে এমন কারখানার সংখ্যাই বেশি। শিল্প পুলিশ গতকাল রোববার এ তথ্য দিয়েছে। অবশ্য তৈরি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এখনো বলছে, ৯০ শতাংশ কারখানা বেতন দিয়ে দিয়েছে। বড় কোনো সমস্যা নাই।
এদিকে, সরকারের ঘোষিত সময়সীমা ১০ জুলাইয়ের মধ্যে অনেক কারখানামালিক বেতন বুঝিয়ে না দেওয়াকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন একাধিক শ্রমিক নেতা। এঁদের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক তাসলিমা আখ্তার গতকাল বলেন, ‘কিছু মালিক কেন দিচ্ছেন না সেটির জবাবদিহির জায়গা নাই। এখানে সরকারের গাফিলতি স্পষ্ট।’
শিল্প পুলিশ জানায়, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সব মিলিয়ে ৩ হাজার ১০০ তৈরি পোশাক কারখানা আছে। শনিবার পর্যন্ত গাজীপুরের ৮৮০টির মধ্যে ৬১০টি, আশুলিয়া ও সাভারের ৭৫০টির মধ্যে ৫২০টি, নারায়ণগঞ্জের ৮৪০টির মধ্যে ৩৯৮ এবং চট্টগ্রামের ৬৩০টির মধ্যে ৪৫০টি কারখানা বেতন দিয়েছে। আর এদের মধ্যে ঈদ বোনাস দিয়েছে ২৫ শতাংশ কারখানা। বোনাস দেওয়ার সরকারঘোষিত শেষ দিন কাল মঙ্গলবার।
এসব তথ্য দিয়ে শিল্প পুলিশের মহাপরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগে বেতন-ভাতা দিলে শ্রমিকেরা কাজ শেষ না করেই বাড়ি চলে যাবেন, এমন শঙ্কায় অনেক কারখানামালিক দিচ্ছেন না। সব মিলিয়ে আশা করছি বুধবার-বৃহস্পতিবার মধ্যে অধিকাংশ মালিকই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিয়ে দেবেন।’
এদিকে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোয়ান গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট করে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। একই সময়ে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের নেতৃত্বে কে এল ফ্যাশনের শ্রমিকেরা কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনের সামনে একই দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট করেন। পরে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ঈদের আগে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা চলে যান।
জানতে চাইলে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যাংকসহ নানা কারণে মালিকেরা সময়মতো দিতে পারেননি। তবে আশা করছি, কালকের মধ্যে সবাই দিয়ে দেবেন।’ সোয়ান গার্মেন্টস সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বিষয়টি আমি সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। সে জন্য এবার ঈদে বাড়িতেই গেলাম না।’
বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাতের পাঁচ আঙুল তো সমান না। কমপ্লায়েন্ট কারখানাগুলো বেতন দিয়ে দিয়েছে। বাকিরাও দিচ্ছে। আমরা ১ হাজার ১০৪ কারখানা জরিপ করে দেখেছি ৯০ শতাংশ কারখানা বেতন দিয়েছে। বোনাস দিয়ে দিয়েছে ৬০ শতাংশ কারখানা।’
সোয়ান গার্মেন্টসের বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘কারখানার মালিক এক চীনা ভদ্রলোক। তিনি মারা গেছেন। তাই কিছু সমস্যা হচ্ছে।’
এদিকে ঈদের আগে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগর, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা ১৫ জুলাই বুধবার খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।