ঢাকা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫
---
---
Demo Newspaper
প্রচ্ছদ » ছুটির দিনে » অস্ট্রেলিয়ায় অর্কের দ্যুতি
শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this News Print Friendly Version

অস্ট্রেলিয়ায় অর্কের দ্যুতি

---

অর্ক দাশ। বাড়ি চট্টগ্রামে। অভিবাসী এই তরুণ মাতাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিনয়জগৎ। মঞ্চ-টিভি-চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই অর্ক কাজ করছেন সমানতালে। সম্প্রতি সিডনিতে মুক্তি পাওয়া অনুপম শর্মার ছবি আনইন্ডিয়ান-এ অভিনয় করেছেন অর্ক। হলিউডেও পা রেখেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি টিভি সিরিজ পরিচালনায়ও হাত লাগিয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ অভিনেতার কথা শুনুন এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে

---১৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মুক্তি পেয়েছে বোম্বের চলচ্চিত্রকার অনুপম শর্মার ছবি আনইন্ডিয়ান। বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতাদের সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করেছেন চট্টগ্রামের ছেলে অর্ক। এই সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তন্বিষ্ঠা চ্যাটার্জি, স্টিফেন হল্টার, গুলশান গ্রোভার, সুপ্রিয়া পাঠক। একটি অতিথি চরিত্রে আছেন সালমান খান। এই ছবিতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশ্বনন্দিত ক্রিকেটার ব্রেট লি।
আনইন্ডিয়ান ছবিটি গড়ে উঠেছে মীরা নামের উপমহাদেশের একটি অভিবাসী মেয়েকে ঘিরে। প্রতিষ্ঠিত স্বাবলম্বী মীরা (ত্বনিষ্ঠা চক্রবর্তী) স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিজের শিশুকন্যা আর মা-বাবাকে নিয়ে থাকে সিডনিতে। মীরার মা-বাবা চায় তাদের মেয়ে ভালো কোনো ভারতীয়কে আবার বিয়ে করুক। মায়ের স্বপ্ন চিকিৎসক কিংবা কোনো উন্নত পেশার কেউ একজনকে তার মেয়ে প্রেমিক হিসেবে বেছে নিক। কিন্তু ঘটনা বাঁক নেয় অন্যদিকে। এক হোলির দিনে রং মাখানোর উৎসবে মীরার মনেও রং ছড়িয়ে পড়ে। সে প্রেমে পড়ে যায় শ্বেতাঙ্গ যুবক উইলের (ব্রেট লি)। উইল তার প্রিয় বন্ধু সিডনিতে বেড়ে ওঠা টিকের কাছ থেকে জেনে নেয় উপমহাদেশের আদব-কায়দা। কারণ, টিকে উপমহাদেশের ছেলে। উইল আর টিকের মধ্যে গলায়-গলায় ভাব। এই টিকে চরিত্রেই অভিনয় করেছেন চট্টগ্রামের অর্ক দাশ।
১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম শহরে অর্কের জন্ম। তাঁর বাবা ছড়াকার ও কলাম লেখক অজয় দাশ গুপ্ত। ১৯৯৬ সালে তিনি অভিবাসী হয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে যান। একমাত্র সন্তান অর্কও যান সঙ্গে। তখন তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

পরবাসী হয়ে কী করে অভিনয়ে এলেন তিনি? জানতে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ হয় অর্কের সঙ্গে। অজয় দাশ গুপ্তের সঙ্গেও হয় যোগাযোগ। তাঁদের কাছ থেকেই জানতে পারি আনইন্ডিয়ান ছবির আগ থেকেই অর্কের অভিনয়জীবনের শুরু। গুগল ঘেঁটে পাওয়া গেল অর্কের অনেক ভিডিও চিত্র ও তাঁর সম্পর্কে নানা তথ্য। ‘প্রাইমারি স্কুলে থাকতেই (২০০১) অভিনয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম আমি। নবম শ্রেণিতে নাটককে বেছে নিই পড়ার বিষয় হিসেবে।’ ফেসবুকে জানান অর্ক।---
২০০৩ সালে আঞ্চলিক শেক্সপিয়ার উৎসবে অর্কের অভিনয়জীবন শুরু। এর পরের বছর ওই উৎসবেই অভিনয়ে সাফল্যটাও এল। ২০০৪ সালের উৎসবে সংলাপ বিভাগে প্রথম হলেন অর্ক। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও অভিনয়ের চর্চা অব্যাহত থাকল। মঞ্চে নিয়মিতই দেখা গেল অর্ক দাশকে। অভিনয় করলেন বেশ কয়েকটি নাটকে। এর মধ্যে গ্রিফিন ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটারের হয়ে সিডনিতে করলেন রেফারেন্সেস টু সালভাদর দালি, মেক মি হট নাটক। এই নাটক দর্শকপ্রিয়তা যেমন পেল, তেমনি সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়াল।
অর্ক ২০১০ সালে যোগ দেন সিডনির এনসেম্বেল থিয়েটারে। এই নাট্যদলের হয়ে মঞ্চে অ্যানিমেলস আউট অব পেপার নাটকে অভিনয় করেন সে বছর। এই নাটকে অভিনয় করে মঞ্চে সেরা নতুন মুখের মনোনয়ন পান সিডনি থিয়েটার পুরস্কারের জন্য। পরের বছর ক্যাসানোভা নাটকে অভিনয় করেন। ২০১৩ সালে গ্রিফিন থিয়েটারের তারকাসমৃদ্ধ নাটক বিচড-এ অভিনয় করেন।

---অর্ক বললেন, ‘আঞ্চলিক শেক্সপিয়ার উৎসবে পুরস্কার পাওয়া ও সিডনি থিয়েটার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে।’ সেই আত্মবিশ্বাসের হাত ধরেই মঞ্চের পর টেলিভিশনের পর্দায়ও হাজির অর্ক। অভিনয় করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রশংসিত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত মিনি সিরিজ ‘দ্য কোড’-এ। দরজা খুলল চলচ্চিত্রজগতেরও। গুড মর্নিং চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন পার্শ্বচরিত্রে। এরপরই সুযোগ পেলেন সদ্য মুক্তি পাওয়া আনইন্ডিয়ান ছবিতে। এবার লিড সাপোর্টিং রোল অর্থাৎ শীর্ষ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ মিলল। হলিউডের ছবিতেও অভিনয় করেছেন অর্ক। ছবিটির নাম দ্য লায়ন।---
অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও নিজের লেখা নাটকের নির্দেশনাও দেন এই তরুণ। ‘দ্য ক্যাজুয়ালস’ নামের একটি কমেডি সিরিজের যৌথ নির্মাতা তিনি। এই টিভি সিরিজটি পরিচালনার পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করেছেন তিনি। খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে ছাড়া হবে তাঁর এই প্রযোজনা। পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেসের হলি ওয়েভ ফেস্টিভ্যালেও দেখানো হবে এটি।বিদেশের মাটিতে নাম-যশ যতই হোক না কেন, নিজের মাতৃভূমিকে ভুলতে পারেন না অর্ক। এখানে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, অভিনয়টা শুরু এই বাংলাদেশেই। চট্টগ্রামের সামার ফিল্ড স্কুলে পড়ার সময় জুতা আবিষ্কার নাটকে তাঁর প্রথম অভিনয়। নিজের সাফল্যের কথা বেশি বলতে চান না অর্ক। বললেন, ‘আমার তো ক্যারিয়ার সবে শুরু। এখনো অনেক পথ বাকি। ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র, টিভি সিরিজ তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই। আমি দ্য লায়ন ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছি। এই চলচ্চিত্রে আমি দেব প্যাটেল ও নিকোল কিডম্যানের সঙ্গে অভিনয় করেছি।’
অর্কের মুখের ভাষা বাংলা। চট্টগ্রামের ভাষায় গড়গড়িয়ে কথা বলতে না পারলেও ভালো করেই বোঝেন। চট্টগ্রামের বেলা বিস্কুট তাঁর খুব প্রিয়। তাঁর বাবা অজয় দাশ গুপ্ত বললেন, ‘এখানে ডলার দিয়ে কিনে তাকে বেলা বিস্কুট খাওয়াতে হয়। হলিউডে অভিনয় শেষে ফিরে আসার আগে ও ওর মাকে ফোন করে বলেছে ওর জন্য ডিম, বেগুনভাজা আর ডাল তৈরি করে রাখতে। কারণ, বাঙালি খাবারই তার
প্রিয় খাবার।’

---বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা যে তাঁর প্রিয়, তাঁর একটা উদাহরণ আনইন্ডিয়ান ছবিতেই পাওয়া যায়। এই ছবির একটি পর্যায়ে অর্ক হুট করে বাংলা সংলাপ বলে ফেলেন। ছবিটির একটি দৃশ্যে দেখা যায়, উইলি (ব্রেট লি), টিকে (অর্ক) আর বন্ধুরা গেছে হিন্দি সিনেমা দেখতে, তারা নাচ দেখতে দেখতে লাফিয়ে উঠছিল বারবার। তখন টিকে ধমক দিয়ে বলে, ‘চুপ কর মুভি দেখ।’ এই সংলাপ এখন সিডনিপ্রবাসী বাঙালিদের কাছে বেশ প্রিয়। অর্করা যখন বাংলাদেশ ছাড়ছিলেন, তখন চট্টগ্রামে তাঁদের বাসা ছিল লাভ লেইনে। আনইন্ডিয়ান ছবিতে অর্কদের লাভ লেনের বাসায় তোলা একটি ছবিও দেখানো হয়েছে।
স্কুলের ছোট আঙিনা থেকে ধীরে ধীরে বিশ্ব চলচ্চিত্রের একজন হয়ে ওঠা অর্ক কখনো সুযোগ পেলে বাংলাদেশের নাটকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন তাঁর পূরণ হোক। বিদেশের মাটি আলো করা ছেলেটির জ্যোতি এখানেও ছড়িয়ে পড়ুক।


দুর্বৃত্তের হামলায় শুদ্ধস্বরের প্রকাশকসহ আহত ৩

ট্যাব বিক্রি কমছেই


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
পরীক্ষামূলকভাবে সিম নিবন্ধন শুরু হয়েছে
এসডিজি অর্জনে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি
কোনালের ‘সুখ থামে না’
আব্বা মুক্ত থাকলে আমাদের ছিল ডাবল ঈদ
মেডিকেল ভর্তির ফল বাতিল চেয়ে করা রিট খারিজ
যে পোশাক অদৃশ্য করে দেবে
সবচেয়ে ধনী দেশ এখন কাতার
চাই জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন
ক্রোয়েশিয়ার দিকে ছুটছে অভিবাসন-প্রত্যাশীরা
লন্ডন পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া