শিরোনাম:
ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫

Demo Newspaper
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫
প্রথম পাতা » পরবাস » করিম সাহেবের মৃত্যু
প্রথম পাতা » পরবাস » করিম সাহেবের মৃত্যু
৩ বার পঠিত
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

করিম সাহেবের মৃত্যু

---

মাস ছয়েক হয়ে গেছে অ্যাডিলেড এসেছি। আসার পরপরই চাকরি পেয়েছি। বাচ্চারা নতুন স্কুলে যাচ্ছে। একটা গাড়িও কিনে ফেলেছি। আমার স্ত্রী কী একটা ক্লাসে ভর্তি হয়েছে। সপ্তাহে তিন দিন আমার সঙ্গে সেও বাসে করে সিটিতে যায় ক্লাস করতে। দুজনেরই সঙ্গে থাকে টিফিন কেরিয়ার। দুপুরে লাঞ্চের সময় দুজনে নিরিবিলিতে কোনো একটা বেঞ্চিতে বসে লাঞ্চ করি। লাঞ্চে বেশির ভাগ সময়েই থাকে দেশি খাবার। আমরা দুজন অনভ্যস্ত হাতে চামচ দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করি। লাঞ্চ শেষ করে দোকান থেকে একটা কফি কিনে দুজনে মিলে চুমুক দিয়ে খাই। মোটামুটি আনন্দময় একটা জীবন। কিন্তু কোনো সুখই বেশিদিন টিকে না। সাহেবরা বিদেশে গেলে আরাম আয়েশ খোঁজে—ব্রিটিশরা খোঁজে পাব, জার্মানরা খোঁজে বিয়ার, রাশানরা খোঁজে ভদকা আর বাঙালিরা খোঁজে অন্য বাঙালিদের। তারপর খোঁজে ইলিশ মাছ। আমি তখন ইলিশ খোঁজার পর্বে আছি। আফগানদের দোকানে ইলিশ পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো হলো বার্মার (মিয়ানমার) ইলিশ। খেতে অতি বিস্বাদ। আমার স্ত্রী অতি যত্ন করে বার্মার ইলিশ রান্না করে। আমি হতাশ মুখে খাই আর দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ি। আমার
স্ত্রী গলায় ঝাঁজ দিয়ে বলে, খাওয়ার সময় এত দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলবে না। এই বিদেশ বিভুঁইয়ে পদ্মার ইলিশ পাবে কোত্থেকে? আমি মাথা নাড়ি। কথা সত্য।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)