শিরোনাম:
ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫

Demo Newspaper
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫
প্রথম পাতা » এক্সক্লুসিভ | পরবাস » ভ্যাট নিয়ে ভট ভট
প্রথম পাতা » এক্সক্লুসিভ | পরবাস » ভ্যাট নিয়ে ভট ভট
১ বার পঠিত
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভ্যাট নিয়ে ভট ভট

 ---

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপ নিয়ে সারা দেশ জুড়েই ইদানীং যে বোঝে সেও আর যে না বোঝে সেও ভটভট শুরু করছে। আমি তাদের পক্ষেও নই আবার বিপক্ষেও নই। বিপক্ষে নই কারণ, সরকারের বাস্তব দিক নির্দেশনামূলক এমন কোনো পদক্ষেপ নেই যাতে করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজ শর্তে আর্থিক ঋণ দিয়ে তাদের একাডেমিক কোর্স নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে পারে। ব্যাংক যদি তা করেও থাকে তা হলে তা বন্ধ করে দিয়ে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এটা করা প্রয়োজন।
আর পক্ষে নই যে কারণে—আমি পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের কথা না বলতে পারলেও কানাডার কথা খুব ভালো করে বলতে পারি। কানাডার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে (সরকারি আর বেসরকারি একই কথা) একজন শিক্ষার্থী তাদের একাডেমিক কোর্স সম্পন্ন করতে গিয়ে টিউশন ফি আর কোর্স ম্যাটেরিয়াল বাবদ যে অর্থ ব্যয় করে (ডর্ম, হোস্টেল বা বাড়ি ভাড়া এগুলো বাদ দিয়েই) সে তুলনার বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যয়কে সমুদ্রের কাছে একটা পুকুরের মতো মনে হবে। আর বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তো লিটারেলি বলা যেতে পারে তারা স্রেফ মাগনা পড়াশোনা করছে। আমার সময়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসে ১৮ টাকা বেতন দিয়েছিলাম। এটা শুধুমাত্র রেগুলার কোর্সগুলোর ক্ষেত্রে। টেকনিক্যাল বিষয় যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারিসহ অন্যান্য বিষয়ে এর পরিমাণ আরও অনেক অনেক বেশি।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, সব বাবা-মাই কি তা হলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তানের জন্য এই অর্থ সরবরাহ করে থাকে? এর উত্তর দেবার আগে একটা ব্যাপার একটু বলে নেই। কানাডায় একটা ছেলে অথবা মেয়ে তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারে যখন তার হাইস্কুলে সব বিষয়ে মার্কস শতকরা আশির ওপরে থাকে। হাতে গোনা অল্প কিছু শিক্ষার্থী এক্সট্রা ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্টের জন্য স্কলারশিপ পেয়ে থাকে। এটাও শুধুমাত্র টিউশন ফি কভার করে। তারপরেও বাংলাদেশের মতো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার ব্যাপার থেকেই যায়। এখানেও অনেক শিক্ষার্থীর কোর্সের মাঝপথে নানা কারণে ড্রপ আউটের ঘটনা ঘটে থাকে। এবার আসি পড়াশোনার ব্যয়ভার বহনের প্রসঙ্গে। ৯৫ শতাংশ বাবা-মার পক্ষেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিশাল খরচের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। কানাডার সরকারও এই বিষয়টা খুব ভালো করেই জানে। সেই জন্যই প্রাদেশিক সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের বাবা-মার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা ঋণ দিয়ে থাকে।
ঋণ নিয়ে তো পড়াশোনা শেষ করল। যেদিন ফাইনাল কোর্স শেষ হবে এর পরেই শুরু হয় সেই কাবুলিওয়ালার মতো ঋণ পরিশোধের তাগাদা। পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই তো আর চাকরি দৌড়ে চলে আসবে না ঘরে! এখানকার চাকরির বাজার বাংলাদেশের মতো অতটা ভয়াবহ না হলেও খুব মসৃণও নয়। কিছু সময়ের জন্য সদ্য পাস করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে চাকরি খোঁজা আরেকটি চাকরি হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় কাবুলিওয়ালার দপ্তর থেকে প্রতিদিন ফোন করে লাইফটাকে হেল করে ফেলে। যত দিন চাকরি না হবে ততদিন (তাই বলে সারা জীবন নয়) ফোন করে জানতে চাইবে চাকরি পেয়েছে কিনা? চাকরির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা? তিন মাস পর আর সময় দেবে না। তখন এটি ক্রেডিট ব্যুরোর অন্তর্গত কালেকশন ডিপার্টমেন্টে চলে যাবে। যেটা কোনো কানাডীয়র কাম্য নয়। তাই কেউ কেউ চাকরি না পেলে এই পরিস্থিতি এড়াতে অন্য আরেকটি কোর্স শুরু করে প্রাথমিক ভাবে বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা করে থাকে। আর যদি চাকরি হয়ে যায় তা হলে শুরু হলো ঋণ পরিশোধের পালা। ঋণ মওকুফের জন্য বিশেষ আবেদনের পরেও খুব অল্প ক্ষেত্রেই ঋণের টাকা কমানোর নজির আছে। এই অবস্থায় নতুন ঘর সংসারের পাশাপাশি ঋণ ঠেলে ঠেলে পুরোটা পরিশোধ হতে হতে দেখা যায় ৮-১০ বছর লেগে যায়।
এই হলো মোটা দাগে একজন কানাডীয় উচ্চশিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের করুণ আলেখ্য। সেই তুলনায় বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর কি খুব বেশি আর্থিক চাপ আরোপ করা হয়ে গেল?



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)